৭ম শ্রেণির শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ের হেমন্ত উৎসব

শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ও শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (ত্রিশাল উপজেলা) ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়ন, কুতুব খানা বাজার সংলগ্ন পলাশতলী গ্রামে অবস্থিত রওশন আরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় আভিধানিক অর্থে উদ্বুদ্ধ একটি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ।১৯৭৭ সালে অত্র এলাকার কিছু সমাজ হিতৈষী ও বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় মাত্র ৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার স্বার্থে যেসকল মহৎপ্রাণ ব্যক্তিবর্গ জড়িত ছিলেন তাদের শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে এলাকাবাসী। গতিশীল এই বিদ্যালয়টি ১৯৯০ সালে মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়ে ঢাকা বোর্ডের স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে প্রত্যন্ত এলাকার এই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫০। ১২ জন শিক্ষক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২২ উপলক্ষে ত্রিশাল উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে রওশন আরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ গার্লস গাইড শিক্ষক,শ্রেষ্ঠ গার্লস গাইড ,শ্রেষ্ঠ গার্লস গাইড গ্রুপ নির্বাচিত হয়েছে একই বিদ্যালয় থেকে ।২০১৭ সালেও ত্রিশাল উপজেলার সবচেয়ে নিম্নমানের প্রতিষ্ঠান ছিল এই বিদ্যালয়। মাত্র পাঁচ বছরে অত্র প্রতিষ্ঠানের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন দক্ষ,কর্মঠ,মেধাবী,সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক জনাব আছমা আক্তার।তিনি অত্র প্রতিষ্ঠানে ২০১৭ সালের পহেলা জুলাই যোগদানের পর থেকে প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়টিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংগ্রাম করে চলেছেন ।প্রতিষ্ঠানটিতে ভৌত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা যেমন রয়েছে তেমনি শিক্ষার গুণগতমান ,সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ, জাতীয় দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করে আসছেন ।বিশ্ব মহামারী করোনা কালীন সময়ে বিশ্ব যখন থমকে গিয়েছিলো তখনও প্রত্যন্ত এলাকার এ প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে ।ত্রিশাল উপজেলায় সর্বপ্রথম জুমের মাধ্যমে ভার্চুয়াল ক্লাস পরিচালনা ,স্কুল পেইজ খুলে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছিল এ বিদ্যালয়টি। সহশিক্ষা কার্যক্রম কে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের পুকুরটি ভরাট করে খেলার মাঠ প্রশস্ত করা সহ বাস্কেটবল ও অন্যান্য খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য নতুন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে বিদ্যালয়টিকে। শ্রেণী শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে তোলার জন্য, আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার জন্য মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ সহ বিদ্যালয়ের চারু ও কারুকলা এবং সংগীতের জন্য খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে তাদের লেখাপড়ার খোঁজখবর নেওয়ার জন্য মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে ।সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক ক্লাস নেওয়া হয়। বিদ্যালয়টিতে বঙ্গবন্ধু কর্নার,মানসম্মত আধুনিক লাইব্রেরী নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের নামাজের জন্য আলাদা ঘর রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য লাইব্রেরি চালু করা হয়েছে যেখান থেকে কার্ডের মাধ্যমে বই নিয়ে বাসায় পড়তে পারে। বিদ্যালয়ের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম শ্রেণিকক্ষে স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে।

বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের দ্বারা দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে ।নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অবস্থা তুলে ধরা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পুকুরের কিছু অংশে মাছ চাষ ,ছাদ বাগান ,পুকুর পাড়ে সবজি চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ।যা মিড ডে মিল ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার শতভাগ ।পরিচালনা পর্ষদ ,এলাকাবাসী ,সম্মানিত অভিভাবক, সকলের সার্বিক সহযোগিতায় এই বিদ্যালয়টি তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।